Transcript
বেন: Vocafy-এর নির্মাতাদের একেবারে নতুন সিরিজে সবাইকে স্বাগতম। আমরা এর নাম দিয়েছি “ভাষার গল্প”, যেখানে আমরা বিশ্বের ভাষাগুলোর পেছনের চমকপ্রদ, অদ্ভুত আর অসাধারণ ইতিহাস খুঁজে দেখি। আমি বেন, আর অবশ্যই আমার সঙ্গে আছেন আমাদের স্থায়ী ভাষাবিশেষজ্ঞ, ক্লারা।
ক্লারা: হাই বেন! এটা শুরু করতে পেরে আমি ভীষণ উত্তেজিত। আর আমরা শুরু করছি একেবারে বড় একটি ভাষা দিয়ে: ইংরেজি। এই মুহূর্তে আমরা যে ভাষায় কথা বলছি।
বেন: একদম। আর অন্য ভাষার একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বুঝতে শুরু করেছি, ইংরেজি ঠিক কতটা... অদ্ভুত। যেমন, একই রকম অর্থের জন্য আমাদের তিনটা শব্দ কেন আছে—kingly, royal, আর regal? ব্যাপারটা অযথাই জটিল মনে হয়।
ক্লারা: শুরু করার জন্য এটা একদম ঠিক জায়গা, কারণ এই একটাই উদাহরণ ইংরেজির গল্পের বিশাল একটা অংশ বলে দেয়। এই তিনটি শব্দ যেন ভাষার তিনটি আলাদা ভূতাত্ত্বিক যুগের জীবাশ্ম। kingly এসেছে Old English থেকে, যা ছিল Anglo-Saxons-দের মূল জার্মানিক ভাষা। royal এসেছে Old French থেকে, যা 1066 সালে Normans-রা নিয়ে আসে। আর regal সরাসরি Latin থেকে ধার করা, যা Renaissance-এর সময় প্রবেশ করে। ইংরেজি একটিমাত্র ভাষা নয়; এটা অন্তত তিনটির মিশ্রণে তৈরি এক সংকর রূপ।
বেন: তাহলে এটা কি ভাষার জগতে Frankenstein-এর দানবের মতো কিছু?
ক্লারা: (হাসি) হ্যাঁ, খুব সুন্দর আর অবিশ্বাস্যভাবে সমৃদ্ধ এক Frankenstein-এর দানব। শুরুতে এটা ছিল একেবারে সাধারণ একটি জার্মানিক উপভাষা। ধরুন, খুব মৌলিক, মাটির কাছাকাছি শব্দ: house, water, man। তারপর এল Vikings, যারা আমাদের দিল হাজার হাজার দৈনন্দিন শব্দ—যেমন sky, skin, get, take, এমনকি they, them, আর their-ও। তারা ব্যাকরণকেও অনেক সহজ করে দেয়।
বেন: এক মিনিট, Vikings... ইংরেজি ব্যাকরণ সহজ করেছিল? আমি তো ভাবতাম আক্রমণ মানেই সবকিছু আরও জটিল হয়ে যাওয়া।
ক্লারা: সব সময় তা নয়! কারণ Old English আর Old Norse পরস্পরের আত্মীয় ভাষা ছিল, তাই সাধারণ মানুষকে কোনো না কোনোভাবে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো। ফলে, মিলেমিশে বোঝাপড়ার জন্য তারা অনেক জটিল ব্যাকরণগত শেষাংশ বাদ দিতে শুরু করে। তবে আসল বড় পরিবর্তন আসে 1066 সালের নর্মান বিজয়ের পর।
বেন: বিজেতা উইলিয়াম (William the Conqueror)।
ক্লারা: ঠিক তাই। হঠাৎ করেই দেখা গেল শাসকশ্রেণি ফরাসিভাষী, আর কৃষকসমাজ ইংরেজিভাষী। 300 বছর ধরে French ছিল ক্ষমতা, আইন, আর অভিজাত খাবারের ভাষা। এ কারণেই আমাদের সেই বিখ্যাত উদাহরণটা আছে: কৃষকরা cow পালন করছে—এটা Old English শব্দ—আর অভিজাতরা খাচ্ছে beef—এটা French শব্দ। একই ব্যাপার pig আর pork, sheep আর mutton-এর ক্ষেত্রেও। ভাষাটাই যেন শ্রেণিভেদের ছাপ বহন করছে।
বেন: অবিশ্বাস্য। তাহলে বিশাল শব্দভাণ্ডারটা সেখান থেকেই এসেছে। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার আরেকটা বড় অভিযোগ আছে: বানান। এটা যেন উচ্চারণের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্কহীন। মানে, though, through, tough... একেবারে দুঃস্বপ্ন।
ক্লারা: আপনি ইংরেজির আরেকটি বড় ঐতিহাসিক দুর্ঘটনার কথাই ধরেছেন। ছোট উত্তরটা হলো: ছাপাখানা সবচেয়ে খারাপ সময়ে এসে পড়েছিল। 15শ শতকে মুদ্রণপ্রক্রিয়া বানানকে মান্য রূপ দিতে শুরু করে। কিন্তু তার ঠিক পরেই ইংরেজিতে ঘটে “Great Vowel Shift” নামে পরিচিত এক বিরাট পরিবর্তন।
বেন: Great Vowel Shift? শুনতেই বেশ নাটকীয় লাগছে।
ক্লারা: সত্যিই ছিল! কয়েকশো বছরের মধ্যে সব দীর্ঘ স্বরধ্বনির উচ্চারণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে বদলে যায়। যেমন, house শব্দটা এক সময় ‘hoos’ উচ্চারণ করা হতো—goose-এর মতো। mouse ছিল ‘moos’। কিন্তু ততক্ষণে ছাপাখানার কারণে বানান প্রায় স্থির হয়ে গেছে। ফলে আমরা আজ এমন এক আধুনিক-শোনানো ভাষার জন্য মধ্যযুগীয় বানানব্যবস্থা বয়ে বেড়াচ্ছি। আসলে আমরা পড়ছি 500 বছর আগে ইংরেজি কেমন শোনাত, তারই এক জমাট ছবি।
বেন: তাহলে ইংরেজি হলো এমন এক জার্মানিক ভাষা, যার শব্দভাণ্ডারের বড় অংশ French, Vikings যেটার ব্যাকরণ সহজ করেছে, আর যার বানানব্যবস্থা মধ্যযুগেই জমে গেছে। অদ্ভুত লাগবে না-ই বা কেন।
ক্লারা: একদম। কিন্তু এই সব বিশৃঙ্খলার একটা ভালো দিকও আছে। যে শক্তিগুলো শব্দভাণ্ডার আর বানানকে জটিল করেছে, তারাই তুলনামূলকভাবে ব্যাকরণকে করেছে অবিশ্বাস্যরকম সহজ। ইংরেজি তার জটিল কারকব্যবস্থার অনেকটাই বাদ দিয়েছে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ব্যাকরণগত লিঙ্গও ঝরিয়ে ফেলেছে। একটি table পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ নয়, সেটা শুধু ‘the table’। French, German বা Spanish-এ লিঙ্গ মুখস্থ করতে যাঁদের কষ্ট হয়েছে, তাঁদের জন্য এটা বিশাল স্বস্তি।
বেন: দারুণ কথা। তাহলে এই ছোট্ট, অদ্ভুত দ্বীপের ভাষা কীভাবে বিশ্বের সাধারণ যোগাযোগভাষা হয়ে উঠল?
ক্লারা: এটা মূলত তিনটি বড় ঢেউয়ে ঘটেছে। প্রথমত, British Empire প্রশাসন আর বাণিজ্যের ভাষা হিসেবে ইংরেজিকে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, 20শ শতকে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরাশক্তি হিসেবে উঠে আসায়—Hollywood, পপ মিউজিক, আর বিজ্ঞানের মাধ্যমে—ইংরেজি আন্তর্জাতিক আলোচনার ভাষা হয়ে যায়। আর তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ডিজিটাল বিপ্লব internet, programming, আর technology-এর ডিফল্ট ভাষা হিসেবে ইংরেজিকে পাকাপোক্ত করে দেয়।
বেন: তাহলে সাম্রাজ্য, পপ সংস্কৃতি, আর প্রযুক্তি—এই তিনের মিশ্রণ। আর সেটাই আমাকে শেষ প্রশ্নে নিয়ে যায়: একটাই কি “সঠিক” ইংরেজি আছে? শিক্ষার্থীদের কি British English-এ মন দিতে হবে, না American English-এ?
ক্লারা: এর সুন্দর দিকটা হলো, ইংরেজি এখন আর কোনো এক দেশের একার সম্পত্তি নয়। এটা এক বিশ্বভাষা। British আর American English সবচেয়ে পরিচিত দুইটি ধরন হলেও, আরও বহু রূপ আছে—যেমন Australian, Canadian, বা Indian English। একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য কোনো একক “সঠিক” রূপ পুরোপুরি আয়ত্ত করা নয়; বরং আপনি যে মানরূপটি শিখতে চান, তাতে ধারাবাহিক থাকা, আর পাশাপাশি অন্যগুলোও বুঝতে পারা। এখন এটা যেন এক ভাষাপরিবার।
বেন: তাহলে ইংরেজি শেখা মানে একই সঙ্গে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রযুক্তি শেখা।
ক্লারা: ঠিক তাই। আপনি শুধু একটি দক্ষতা শিখছেন না; আপনি যুক্ত হচ্ছেন দখল, সংস্কৃতি আর সংযোগের এক জীবন্ত, শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া গল্পের সঙ্গে। আর সেই গল্পটা বুঝতে পারলে ভাষার অদ্ভুত দিকগুলো আর শুধু সহনীয়ই লাগে না, বরং ভীষণ আকর্ষণীয় মনে হয়।
বেন: ক্লারা, আমাদের নতুন সিরিজের জন্য এটা সত্যিই দুর্দান্ত শুরু হলো। ইংরেজির সব অদ্ভুততাসহ সেটাকে বোঝার মতো করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
ক্লারা: আনন্দ আমার, বেন। বলার মতো আরও অনেক গল্প বাকি আছে।