Transcript
Ben: “The Story of Languages”-এ আবারও স্বাগতম। আমি বেন। আর আজ আমরা পূর্ব এশিয়ায় যাত্রা করছি এমন একটি ভাষা অন্বেষণ করতে, যা আমাদের অনেককে মুগ্ধ করে এবং, সত্যি বলতে, একটু ভয়ও ধরায়: জাপানি। আমার নিয়মিত সহ-উপস্থাপক ক্লারা আজ নেই, তাই নতুন একজন বিশেষজ্ঞকে পেয়ে আমি দারুণ আনন্দিত। অনুষ্ঠানে স্বাগতম, সারাহ।
Sarah: হাই বেন, এখানে থাকতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আর আপনি ঠিকই বলেছেন, “ভীতিকর” শব্দটাই বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহার করেন যখন তারা প্রথম কোনো জাপানি বাক্য দেখেন। এটা দেখতে যেন সুন্দর, কিন্তু দুর্ভেদ্য অক্ষরের এক দেওয়াল।
Ben: একদম! মনে হয় একটা বাক্য পড়তেই যেন তিনটে আলাদা ভাষা শিখতে হবে। একদিকে এই জটিল, ছবির মতো অক্ষর, তারপর কিছু বাঁকানো চিহ্ন, তারপর কিছু ধারালো, কোণাকুণি চিহ্ন। এটা খুলে বোঝা শুরুই বা কোথা থেকে করব?
Sarah: শুরু করার জন্য এটাই একদম ঠিক জায়গা। এটা তিনটি ভাষা নয়, বরং তিনটি লিপি, যা একসঙ্গে দারুণ সামঞ্জস্যে কাজ করে—একটা টুলকিটের মতো। প্রথমে আছে Kanji, চীনা থেকে নেওয়া জটিল চিহ্নগুলো। এগুলো পুরো ধারণা বোঝায়, যেমন 山 মানে “পাহাড়”। এগুলোই বিশেষ্য আর ক্রিয়ার মূল অংশ—অর্থের কেন্দ্রবিন্দু।
Ben: ঠিক আছে, মানে ভিত্তির ইটগুলো। তাহলে বাকি দুটো কী?
Sarah: ওগুলো হলো সবকিছু জুড়ে রাখার আঠা। বাঁকানো লিপিটি হলো Hiragana। এটি ধ্বনিনির্ভর, অর্থাৎ প্রতিটি চিহ্ন একটি করে অক্ষরাংশ, যেমন ‘ka’, ‘shi’, ‘to’। এটি সব ব্যাকরণগত কাজ সামলায়—ক্রিয়ার শেষাংশ, পার্টিকল, আর যেগুলোর Kanji নেই সেসব। তারপর আছে Katakana, ওই কোণাকুণি লিপি। এটিও ধ্বনিনির্ভর, তবে এর মূল কাজ বিদেশি ধার করা শব্দ লেখা। তাই আপনার নাম, “Ben”, বা “coffee” শব্দটি Katakana-তে লেখা হবে।
Ben: বাহ, তাহলে একটি বাক্যই তিনটি লিপিকে আলাদা কাজের জন্য একসঙ্গে বুনে নিতে পারে। ভেবে দেখলে এটা তো সত্যিই খুব কার্যকর।
Sarah: ঠিক তাই। “I drink coffee” বাক্যে “I” আর “drink” Kanji-তে হতে পারে, ব্যাকরণগত অংশগুলো Hiragana-তে, আর “coffee” Katakana-তে। দেখতে কঠিন লাগে, কিন্তু আসলে এটি অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত এক দৃশ্যমান ব্যবস্থা।
Ben: তাহলে এই লিখনপদ্ধতির পাহাড়টা একবার টপকে গেলে, ব্যাকরণ কি একটু সহজ লাগে? শুনেছি ইংরেজির তুলনায় এটা পুরো উল্টো।
Sarah: শুরুতে অনুভূতিটা সত্যিই “উল্টো” বলেই মনে হয়! ইংরেজি হলো Subject-Verb-Object: “I eat an apple.” জাপানি সেটাকে Subject-Object-Verb করে: 「私はりんごを食べます」 (Watashi wa ringo o tabemasu), যার আক্ষরিক মানে “আমি আপেল খাই”। অর্থাৎ ক্রিয়াটি সবসময় একেবারে শেষে আসে।
Ben: তাহলে শব্দের ক্রম এত নমনীয় হলে কোনটা subject আর কোনটা object, সেটা বোঝেন কীভাবে?
Sarah: এখানেই পার্টিকলের জাদু। এগুলো ছোট ছোট শব্দ, যা একটি বিশেষ্যের পরে বসে বলে দেয় বাক্যে তার ভূমিকা কী। যেমন wa বিষয় বা topic চিহ্নিত করে, আর o object চিহ্নিত করে। যেন প্রতিটি শব্দের গায়ে ছোট্ট একটা ট্যাগ লাগানো আছে, যা তার কাজ বুঝিয়ে দেয়। শব্দের ক্রম বদলাতে পারে, কিন্তু এই ট্যাগগুলো অর্থকে স্পষ্ট রাখে।
Ben: দারুণ! এর যুক্তি একেবারেই আলাদা। এই কারিগরি দিকের বাইরে, জাপানির ভীষণ ভদ্র ভাষা হিসেবে একটা সুনাম আছে। সেটা ভাষার ভেতরেই কীভাবে গাঁথা?
Sarah: আপনি Keigo-এর কথা বলছেন, অর্থাৎ honorific speech। ভাষাটির সাংস্কৃতিকভাবে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শব্দভান্ডার ও ক্রিয়ার রূপের একটি জটিল ব্যবস্থা, যা আপনি কাদের সঙ্গে কথা বলছেন তার ওপর বদলে যায়। বসের সঙ্গে কথা বলা, বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা, বা কোনো গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলা—এসব মৌলিকভাবেই আলাদা।
Ben: তাহলে এটা শুধু “sir” বা “ma’am” বলার চেয়েও বেশি কিছু?
Sarah: ওহ, অনেক বেশি। যার সঙ্গে আপনি কথা বলছেন তাকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য আলাদা রূপ আছে, আবার নিজেকে নম্রভাবে প্রকাশ করার জন্যও আলাদা রূপ আছে। উদাহরণ হিসেবে, আপনার বস খাচ্ছেন আর আপনি নিজে খাচ্ছেন—এই দুই ক্ষেত্রে “খাওয়া” বোঝাতে একই ক্রিয়া ব্যবহার করবেন না। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের প্রতি সম্মান দেখানো এবং সামঞ্জস্য বজায় রাখার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
Ben: শিখছেন এমন কারও জন্য তো এটা সত্যিই মাইনফিল্ডের মতো! আরেকটা বিভ্রান্তি দূর করি। পশ্চিমা বিশ্বের অনেকে চীনা আর জাপানিকে একই দলে ফেলেন। বাস্তবে এরা কতটা সম্পর্কিত?
Sarah: এটা বড়সড় ভুল ধারণা। তারা সম্পূর্ণ আলাদা ভাষা-পরিবারের। হ্যাঁ, জাপানি তার লিখনব্যবস্থা, অর্থাৎ Kanji, চীন থেকে নিয়েছে, কিন্তু মিল সেখানেই শেষ। যেমন ইংরেজি Latin alphabet ব্যবহার করে, কিন্তু ফরাসি বা স্প্যানিশের মতো Romance language নয়। চীনা একটি tonal language, যেখানে কণ্ঠস্বরের সুর বদলালেই শব্দের অর্থ পুরো বদলে যায়। জাপানি tonal নয়; এতে আরও সূক্ষ্ম pitch-accent আছে, তাই শেখারতদের জন্য এর উচ্চারণ আশ্চর্যজনকভাবে বেশ সরল লাগে।
Ben: তাহলে আসলে উচ্চারণই কি তুলনামূলক সহজ অংশগুলোর একটি?
Sarah: অবশ্যই। এতে স্প্যানিশের মতোই পাঁচটি পরিষ্কার vowel sound আছে—‘a, i, u, e, o’—এবং এগুলো বেশ স্থির। শেখারতদের জন্য এটা সত্যিই বড় সুবিধা।
Ben: আমরা দেখেছি anime আর manga-র মাধ্যমে জাপানি সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে। এতে ভাষার ওপর কী প্রভাব পড়েছে?
Sarah: বিপুল প্রভাব। kawaii (cute) বা sugoi (amazing)-এর মতো শব্দ এখন সারা দুনিয়ায় পরিচিত। তবে প্রভাবটা দুদিকেই গেছে। জাপানি ইংরেজি শব্দ ধার নিয়ে সেগুলোকে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে অসাধারণ দক্ষ। একে বলে wasei-eigo, বা “Japanese-made English।” এর ভালো উদাহরণ salaryman, যার অর্থ অফিসকর্মী, অথবা mansion শব্দটি—জাপানে যার মানে বিশাল প্রাসাদ নয়, বরং আধুনিক apartment বা condo।
Ben: অসম্ভব! তাহলে টোকিওতে mansion খুঁজলে, আসলে আপনি একটা condo-ই খুঁজছেন। ভাষাটার আরও কী কী অনন্য, অভিব্যক্তিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে?
Sarah: আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো এর অনুকারধ্বনির বিপুল সমৃদ্ধি। শুধু শব্দ বোঝানোর জন্য নয়, অবস্থা বা অনুভূতিও বোঝানোর জন্য এমন শব্দ আছে। Zaa-zaa হলো ঝুম বৃষ্টির শব্দ। আর waku-waku হলো উত্তেজিত আগ্রহে অপেক্ষার অনুভূতি, আর kira-kira বোঝায় ঝিকিমিকি বা চকচকে কিছু। এতে ভাষায় এমন অসাধারণ টেক্সচার আর জীবন্ততা আসে, যা অনুবাদ করা অনেক সময় কঠিন।
Ben: তাহলে সংক্ষেপে, আমাদের সামনে এমন এক ভাষা আছে যার বহুস্তরীয় লিখনপদ্ধতি, বাক্যের শেষে ক্রিয়া-নির্ভর ব্যাকরণ, ভেতরে গাঁথা গভীর সম্মানবোধের ব্যবস্থা, আর অবিশ্বাস্যভাবে অভিব্যক্তিপূর্ণ শব্দভান্ডার—সবই একসঙ্গে কাজ করে। একজন শিক্ষার্থীর সত্যিকার অর্থে এটা বুঝতে সবচেয়ে কোন বিষয়টি জানা দরকার?
Sarah: সেটাই হলো, জাপানি খুবই প্রসঙ্গনির্ভর ভাষা। যা বলা হয় না, অনেক সময় তা-ই বলা কথার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিখ্যাত ধারণা আছে, 「空気を読む」 (kūki o yomu), যার আক্ষরিক অর্থ “হাওয়া পড়া”। এর মানে হলো পরিস্থিতি, সামাজিক ইশারা, আর অনুচ্চারিত অর্থ বুঝে নেওয়া। জাপানি শেখা শুধু শব্দ মুখস্থ করা নয়; বরং পৃথিবীকে আরও সূক্ষ্ম, পরোক্ষ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে শেখা।
Ben: সারাহ, এটা ছিল অসাধারণ এক গভীর আলোচনা। যেটা এতক্ষণ ভীতিকর মনে হচ্ছিল, আপনি সেটাকেই যুক্তিসংগত আর সুন্দর করে তুললেন। আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
Sarah: আনন্দ তো আমারই, বেন। সবাইকে বিদায়!
Ben: বিদায়।