Transcript
Ben: আবারও স্বাগতম "ভাষার গল্প"-এ। আমি বেন, আর আমার সঙ্গে আছেন ক্লারা। গতবার আমরা চীনের ভাষাগুলোর অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলেছিলাম, যেগুলোকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে একটি মাত্র লিপি। আজ আমরা যাচ্ছি আরেকটি উপমহাদেশে, যেখানে ভাষার সংখ্যা সত্যিই বিস্ময়কর: ভারত। সেখানে কি পরিস্থিতি একই রকম?
Clara: হাই বেন। প্রশ্নটি দারুণ, কারণ উপরিভাগে বিষয়টা একই রকমই মনে হয়—এক দেশ, বহু ভাষা। কিন্তু ভারতের ভাষাগত গল্পটি মূলত একেবারেই আলাদা। ভারতে শুধু অনেক ভাষাই নেই; এখানে হাজার হাজার বছর ধরে পাশাপাশি টিকে আছে দুটি সম্পূর্ণ পৃথক, বড় ভাষাপরিবার।
Ben: দুটি ভাষাপরিবার? বাস্তবে এর মানে কী?
Clara: ধরুন আপনি ভারতের মাঝখান দিয়ে একটি রেখা টানলেন। মোটামুটিভাবে বলতে গেলে, উত্তরের ভাষাগুলো ইন্দো-আর্য পরিবারভুক্ত, যেগুলো ইংরেজি, জার্মান ও রুশ ভাষার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। আর দক্ষিণের ভাষাগুলো দ্রাবিড় পরিবারভুক্ত, যা উপমহাদেশের বাইরের কোনো বড় ভাষাপরিবারের সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়। এদের উৎস আলাদা, ব্যাকরণ আলাদা, আর মূল শব্দভান্ডারও আলাদা।
Ben: তাহলে, চীনের মতো যেখানে ভাষাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, এখানে সেখানে আছে একেবারে আলাদা দুটি গোষ্ঠী। এদের সবার মধ্যে সেতুর কাজ কোন ভাষা করে?
Clara: আসলে, সরকারি দৃষ্টিতে এমন দুটি সেতুভাষা আছে। প্রথম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালীটি হলো হিন্দি। এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভাষা, বিশেষ করে উত্তরে, এবং সরকার ও বলিউড সিনেমার মাধ্যমে এটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত। ভারতে চলাফেরার সুবিধার জন্য যদি একটি ভাষা শিখতেই হয়, তবে হিন্দিই আপনার সেরা পছন্দ।
Ben: আর দ্বিতীয়টি?
Clara: দ্বিতীয়টি হলো ইংরেজি। এটি ঔপনিবেশিক আমলের উত্তরাধিকার, কিন্তু উচ্চশিক্ষা, জাতীয় ব্যবসা, এবং ভিন্ন ভাষাভাষী অঞ্চলের শিক্ষিত মানুষের মধ্যে যোগাযোগের জন্য—বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে—এটি এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষা।
Ben: তাহলে ভাষাগুলো নিয়েই কথা বলি। উত্তরের ওই ইন্দো-আর্য পরিবার থেকে একটি প্রধান ভাষার উদাহরণ দিন।
Clara: হিন্দি ছাড়া সম্ভবত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভাষা হলো বাংলা, যা পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয়। এর সাহিত্যিক ইতিহাস অসাধারণ সমৃদ্ধ—নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষা ছিল বাংলা। অনেকেই একে খুব কোমল ও সুরেলা শোনায় বলে মনে করেন।
Ben: ঠিক আছে, আর দক্ষিণের দ্রাবিড় পরিবার থেকে? সেখানে বড় কোনো ভাষা কোনটি?
Clara: দক্ষিণের দুই মহীরুহ হলো তেলুগু ও তামিল। বিশেষ করে তামিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ এটি বিশ্বের প্রাচীনতম জীবিত ধ্রুপদি ভাষাগুলোর একটি, যার নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যিক ঐতিহ্য দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। তামিলভাষীদের মধ্যে তাদের ভাষার ইতিহাস নিয়ে গভীর গর্ব রয়েছে। এটি শুধু একটি ভাষা নয়; এটি এক প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ।
Ben: অবিশ্বাস্য! কিন্তু কথ্য ভাষাগুলো যদি এত ভিন্ন হয়, তাহলে লেখার ক্ষেত্রে কী হয়? চীনের মতো সবার জন্য কি একটি মাত্র লিপি আছে?
Clara: না, আর এটিও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। ভারতের অধিকাংশ ভাষার নিজস্ব স্বতন্ত্র লিপি রয়েছে। দেখতে এগুলো অনেকটাই ভিন্ন হতে পারে—যেমন হিন্দির দেবনাগরী লিপির কৌণিক রেখা আর তামিল লিপির গোলাকার বক্রতা—তবু এদের বেশিরভাগই একই প্রাচীন উৎস, ব্রাহ্মী লিপি, থেকে বিকশিত হয়েছে। ধ্বনিগত গঠনের দিক থেকে এদের মধ্যে এক ধরনের মিল আছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
Ben: একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, হিন্দির মতো কোনো ভারতীয় ভাষা শিখতে গিয়ে বড় চমক বা চ্যালেঞ্জ কী কী হতে পারে?
Clara: প্রথম যে বিষয়টি ইংরেজিভাষীদের অস্বাভাবিক লাগবে, তা হলো শব্দক্রম। ইংরেজিতে আমরা বলি "I am learning Hindi" (কর্তা-ক্রিয়া-কর্ম)। কিন্তু হিন্দিতে বলা হয় "I Hindi am-learning" (কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া)। অর্থাৎ ক্রিয়াটি সবসময় শেষে আসে।
Ben: ঠিক আছে, এতে অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে। আর কী?
Clara: আরও দুটি বড় বিষয় আছে। প্রথমত, অনেক ভারতীয় ভাষায় এমন কিছু ধ্বনি আছে, যা ইংরেজিতে নেই—যেমন রেট্রোফ্লেক্স ব্যঞ্জনধ্বনি, যেখানে জিহ্বার ডগা মুখের ভেতরে ওপরের দিকে মুড়ে উচ্চারণ করতে হয়। স্বাভাবিকভাবে উচ্চারণ করতে চাইলে এগুলো আয়ত্ত করা খুবই জরুরি। দ্বিতীয়ত, এবং এটি সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ, হলো আনুষ্ঠানিকতার স্তর। উদাহরণস্বরূপ, হিন্দিতে "আপনি" বোঝাতে তিনটি আলাদা শব্দ রয়েছে, যা নির্ভর করে আপনি যার সঙ্গে কথা বলছেন তার সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা ও সম্মানের মাত্রার ওপর। ভুলটি ব্যবহার করলে তা বড় সামাজিক অশোভনতা হিসেবে ধরা পড়তে পারে।
Ben: অর্থাৎ শুধু "আপনি" বলতেও সামাজিক অবস্থানটা বুঝে নিতে হয়। দারুণ লাগছে। এত বৈচিত্র্যের মধ্যে, আঞ্চলিক ভাষাগুলো কি হিন্দি ও ইংরেজির চাপে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে?
Clara: উদ্বেগটি যথার্থ, কিন্তু আপাতত উল্টো ঘটনাই ঘটছে বলে মনে হয়। হারিয়ে যাওয়ার বদলে আঞ্চলিক ভাষাগুলো বরং ভালোভাবেই বিকশিত হচ্ছে। রাজ্যভিত্তিক গর্ব, প্রাণবন্ত আঞ্চলিক গণমাধ্যম, এবং ইন্টারনেট এগুলোকে আরও শক্তি দিচ্ছে। ব্যবসার কাজে মানুষ হিন্দি বা ইংরেজি ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু দৈনন্দিন জীবন, সিনেমা দেখা, গান গাওয়া—এসবই তাঁরা করেন বাংলা, মারাঠি, তামিল বা আরও ডজনখানেক ভাষায়। ভারত কোনো melting pot নয়; বরং এটি এক সুন্দর, জটিল মোজাইক।
Ben: হিন্দি ও ইংরেজির মাধ্যমে একসঙ্গে ধরে রাখা এক ভাষিক মোজাইক। বলার ভঙ্গিটা সত্যিই দারুণ।
Clara: একদম। যে কোনো ভারতীয় ভাষা শেখা শুধু একটি দক্ষতা অর্জন নয়। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময় সভ্যতার একটি অংশ উন্মুক্ত করার চাবি হাতে পাওয়ার মতো।
Ben: ক্লারা, এই অসাধারণ ভাষাগত ভূদৃশ্যের মধ্যে দিয়ে আমাদের পথ দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। এখন স্পষ্ট, ভারত শুধু একটি গল্প নয়, বরং গল্পে ভরা এক বিশাল গ্রন্থাগার।
Clara: আপনাকে স্বাগতম, বেন। আর সেই প্রতিটি গল্পই বলা হয় একেকটি ভিন্ন, সুন্দর ভাষায়।